Wednesday, November 28, 2018
Tuesday, November 27, 2018
শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
বাংলা নিউজ রিপোর্ট
২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
বিএনপির মনোনয়ন বিতরণ। ছবি-যুগান্তর
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেদ্বিতীয় দিনেরমতোদলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে বিএনপি।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টা থেকে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া শুরু হয়। যদিও আগে থেকেই চূড়ান্ত করা ছিল বিএনপির প্রার্থী তালিকা।
প্রথমদিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী রাখা হয়েছে। তবে দলের প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এর জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ফরমেও প্রার্থীদের স্বাক্ষর রাখা হচ্ছে।
তবে আসনগুলোর ব্যাপারে আগামী ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিন সকাল থেকেই মনোনয়নপত্র নিতে গুলশান কার্যালয়ে এসে ভিড় করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
দ্বিতীয় দিনে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তারা হলেন-
ঢাকা বিভাগ:
ঢাকা
ঢাকা-২ আমান উল্লাহ আমান ও তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও তার পুত্রবধু নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা-৪ সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পুত্র তানভীর আহমেদ রবীন, ঢাকা-৫ নবী উল্লাহ নবী ও অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ঢাকা-৬ ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও আবুল বাশার, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবিব-উন-নবী সোহেল, ঢাকা-১২ সাইফুল আলম নীরব ও আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, ঢাকা-১৩ আবদুস সালাম ও আতাউর রহমান ঢালী, ঢাকা-১৪ সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক ও এস এ সিদ্দিক সাজু, ঢাকা-১৫ মামুন হাসান, ঢাকা-১৬ আহসান উল্লাহ হাসান ও মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা-১৭ মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ফরহাদ হালিম ডোনার ও কামাল জামান মোল্লা, ঢাকা-১৮ এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা-১৯ দেওয়ান সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-২০ ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান।
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ-১ অ্যাডভোকেট তৈমুর রহমান আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামন মনির ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ মাহমুদুর রহমান সুমন, আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আজহারুল ইসলাম মান্নান ও খন্দকার আবু জাফর, নারায়ণগঞ্জ ৪ মোহাম্মদ শাহ আলম ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তবে এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এসএম আকরামের নাম রয়েছে।
নরসিংদী
নরসিংদী-১ খায়রুল কবীর খোকন, নরসিংদী-২ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নরসিংদী-৩ সানাউল্লাহ মিয়া।
মন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সীগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান সিনহা, মুন্সীগঞ্জ-৩ আবদুল হাই।
গাজীপুর
গাজীপুর-১ চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর-২ সালাহউদ্দিন সরকার ও মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে, গাজীপুর-৪ নিয়াজুল হান্নান শাহ্, গাজীপুর-৫ ফজলুল হক মিলন ও মনির হোসেন।
ফরিদপুর
ফরিদপুর-১ শাহ মো. আবু জাফর ও খন্দকার নাছিরুল ইসলাম, ফরিদপুর-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ও শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-৩ চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও নায়েবা ইউসুফ, ফরিদপুর- ৪ ইকবাল হোসেন খন্দকার সেলিম ও শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা।
রাজবাড়ী
রাজবাড়ী-১ আলী নেওয়াজ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক।
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ-১ সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ ২ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ -৩ এস এম জিলানি।
মাদারীপুর
মাদারীপুর-১ সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী, মাদারীপুর-২ মিল্টন বৈদ্য, মাদারীপুর-৩ আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।
শরীয়তপুর
শরীয়তপুর-১ সরদার নাছির উদ্দিন কালু, শরীয়তপুর-২ শফিকুর রহমান কিরন, শরীয়তপুর-৩ মিয়া নুরুদ্দিন অপু।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম খান চুন্নু, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, কিশোরগঞ্জ-২ সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন, কিশোরগঞ্জ ৩ অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন, কিশোরগঞ্জ-৪ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, সুরঞ্জন ঘোষ, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও তার ছেলে ছেলে মাহমুদুর রহমান উজ্জলকেও প্রার্থী রাখা হয়েছে, কিশোরগঞ্জ-৬ বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলম।
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল-১ ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও সরকার শহীদ, টাঙ্গাইল-২ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও শামছুল আলম তোফা, টাঙ্গাইল-৩ মাঈনুল ইসলাম ও লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ লুৎফর রহমান মতিন ও ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হালিম, টাঙ্গাইল-৫ মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ও ছাইদুল হক ছাদু, টাঙ্গাইল-৬ অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী ও নূর মোহাম্মদ খান ও টাঙ্গাইল-৭ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও সাইদুল ইসলাম খান। টাঙ্গাইল-৮ আসন এখনো ঘোষণাকরা হয়নি। এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্
বিএনপি গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার এই দুদিনে প্রায় ৮০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আমাদের দল থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন দিয়েছি প্রায় ৮০০-র মতো। ২০-দলীয় জোটের শরিকদেরও দেওয়া হয়েছে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছে। পরে যখন বাছাই হয়ে যাবে, তখন ঠিক করা হবে।’
তাহলে কি শরিকদের সঙ্গে সর্বমোট ৬০-এর বেশি আসন বণ্টন হবে না? সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মনে হয়।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল জানান, ২০-দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ১৫টির মতো আসন তারা ছেড়ে দিতে পারেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের কত আসন ছাড়া হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল বলেন, ‘এখন তারা তাদের দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছে। পরে এটা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’
২০-দলীয় জোটের মধ্যে বিজেপি, খেলাফত মজলিস, এলডিপি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এনপিপি, লেবার পার্টি ও সাম্যবাদী দলকে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এর সঠিক সংখ্যা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অন্যান্য শরিকদের জন্য কতটি আসন ছাড়বে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে গণফোরাম বিভিন্ন আসনে পৃথকভাবে অনেককেই মনোনয়ন দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী লড়বেন তা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই সিদ্ধান্তে পৌছতে হবে। এই জোটের সবাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত দুই দিনে সারাদেশের যতগুলো আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে রাখা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রার্থিতার অযোগ্যতার কারণে শেষ পর্যন্ত যেন আসন ফাঁকা না থাকে সে কারণেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
আজ কামান্না দিবস
চঞ্চল মাহমুদ ঝিনাইদহ:
২৬ নভেম্বর ১৯৭১’র আজকের এই দিনে ঝিনাইদহের শৈলকুপার কামান্না গ্রামে পাক-হানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে শহীদ হন ২৭ জন মুক্তি পাগল বীরমুক্তিযোদ্ধা।
কামান্না যুদ্ধে যে ২৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন তারা হলেন-শহীদ খোন্দকার রাশেদ আলী (শিবরামপুর, মাগুরা), শহীদ আব্দুল মোমিন উদ্দীন (ফুলবাড়ি, মাগুরা), শহীদ মো. কাদের বিশ্বাস (মোর্তোজাপুর, শ্রীপুর), শহীদ মোঃ শহীদুল ইসলাম (পশ্চিম বেরেইলা, মাগুরা), শহীদ মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফুলবাড়ি, মাগুরা), শহীদ রিয়াত মন্ডল (আলীধানী, মাগুরা), শহীদ আব্দুল মোতালেব (ইছাখাদা, মাগুরা), শহীদ আলী হোসেন (আরালিয়া, মাগুরা), শহীদ শরিফুল ইসলাম (কালা লক্ষীপুর, ঝিনেদা), শহীদ মুন্সী আলীমুজ্জামান ওরফে আরিফ মুন্সী (বিষ্ণুপুর, মাগুরা), শহীদ মো. গোলাম কওসার মোল্লা (মির্জাপুর, মাগুরা), শহীদ মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনি খাঁ (হ্নদয়পুর, মাগুরা), শহীদ সেলিম ওরফে কেটে (শিবরামপুর, মাগুরা), শহীদ হোসেন আলী (শ্রীমন্তপুর, মাগুরা), শহীদ গোলজার খাঁ (মালিগ্রাম, মাগুরা), শহীদ আনিসুর রহমান (আরিয়াকান্দি, মাগুরা), শহীদ অধীর কুমার শিকদার (হাজীপুর, মাগুরা), শহীদ তাজুল ইসলাম তাজু (পারনান্দুয়ারী ব্যাপারীপাড়া), শহীদ গৌরচন্দ্র রায় (হাজীপুর, মাগুরা), শহীদ আলমগীর ( হাজীপুর, মাগুরা), শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রাজা (দাইরপুল, মাগুরা), শহীদ আকবর (অজ্ঞাত), শহীদ সালেক মোল্লা (দ্বারিয়াপুর, শ্রীপুর, মাগুরা), শহীদ সলেমান শিকদার (নরসিংহাটি, মঘি, মাগুরা), শহীদ মাছিম মিয়া (হ্নদয়পুর, হাজীপুর, মাগুরা), শহীদ মুন্সী আব্দুর রাজ্জাক রাজা (বারইপাড়া, শ্রীকোল, মাগুরা), শহীদ নিখিল কুমার মন্ডল (বাগডাঙ্গা, মাগুরা)।
শুধুমাত্র গুলিবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক রাজা (এফএফ) একদিন পরে মৃত্যুবরণ করেন। পরে দাইরপোল নিজবাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনটিকে কামান্না দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। প্রতি বছর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় দিনটিকে স্মরণ করে সর্বস্তরের মানুষ। শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় শৈলকুপাবাসী।
উপজেলা সদর হতে ১৬ কিলোমিটার দূরে অজপাড়াগাঁ ‘কামান্না’। অবস্থানগত সুবিধার কারণে যুদ্ধ চলাকালীন গ্রামটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ নভেম্বর রাতে ৪২ জনের একদল চৌকস রণকৌশলী মুক্তিপাগল যোদ্ধা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক অবস্থান নেন কামান্নার মাধবচন্দ্রের পরিত্যক্ত বাড়িতে। কামান্নায় অবস্থান করা ৪২ মুক্তিযোদ্ধার অধিকাংশ বাড়ি পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর থানা ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং বাকিদের শৈলকূপায়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের খবর গোপন থাকে না। স্থানীয় রাজাকারদের তৎপরতায় খবরটি পৌঁছে যায় ঝিনাইদহ ও মাগুরার হানাদার ক্যাম্পে। হানাদাররা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ নভেম্বর রাতের শেষ প্রহরে চারদিক থেকে ভারী অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘিরে ফেলে কামান্নার অস্থায়ী মুক্তিযোদ্ধা ঘাঁটিটি। সময় না দিয়ে হঠাৎ করেই সার্চ লাইট নিক্ষেপ করে বৃষ্টির মতো গুলি চালানো শুরু করে। আকস্মিক আক্রমণে ঘুমন্ত মুক্তিযোদ্ধারা হকচকিয়ে যান। এক পর্যায়ে নিজেদের সামলে নিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। হানাদারদের ভারী অস্ত্র-সস্ত্রের কাছে সামান্য কিছু স্টেনগান-মেশিনগান নিয়েও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যান ২৭ নভেম্বর ভোর রাত পর্যন্ত। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের আর শেষ রক্ষা হয়নি। এদিন সম্মুখ সমরে শহীদ হন ২৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের লাশের উপর পৈশাচিক উন্মাদনা করতে করতে এলাকা ছাড়ে হানাদাররা। যাওয়ার সময় গ্রামটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।
মাগুরা জেলার শিবরামপুর গ্রামের খোন্দকার আব্দুল মাজেদ মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন প্রতিষ্ঠা করেন মাগুরা সদর থানা সম্লিলিত মুক্তিবাহিনী বা মাজেদ বাহিনী যেটা শ্রীপুর বাহিনীর একটা উপবাহিনী হিসেবে পরিচিত। যুুদ্ধকালীন সময় সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী বা মাজেদ বাহিনীর অধিনায়ক হিসাবে খোন্দকার আব্দুল মাজেদ যুদ্ধ পরিচালনা করেন। মাজেদ সাহেবের বড় ছেলে খোন্দকার রাশেদ আলী ছাত্র অবস্থায় নিজের পিতার বাহিনীতে যোগদান করে কামান্নাতে শহীদ হন। এই দলটি কমান্ডার ছিলেন হা.মে. সমশের আলী ও ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন আব্দুর রহমান। তাছাড়া মাজেদ সাহেবের মামাতো ভাই সেলিম বিশ্বাস ও জামাতা শহিদুল্লাহ কামান্না যুদ্ধে শহীদ হন। সেদিনের সেই সম্মুখ যুদ্ধে মারা যান পারনান্দুয়ালী গ্রামের তাজুল ইসলাম। সেই সস্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন পারনান্দুয়ালী গ্রামের কমান্ডার আব্দুস সামাদ ও আব্দুল জলিল। ভাগ্যবশত তারা দুজনই বেঁচে যান। কিন্তু কমান্ডার সামাদ সেদিনের সেই সম্মুখযুদ্ধে মারাত্মক আহত হন, আজও তিনি সেই দুঃসহ যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।
ওই দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৃদ্ধ ছামেনা বেগম জানান, তিনি একটি গর্তের ভেতর রবিশেঠ, জাহাঙ্গীরসহ ৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রেখে উপরে খড় বিছিয়ে লুকিয়ে রাখেন। পাকসেনারা চলে গেলে নদী পার করে নিরাপদে আলফাপুরের দিকে চলে যেতে সাহায্য করেন। যুদ্ধে আহত এক মুক্তিযোদ্ধাকে পানি খাওয়াতে গেলে বৃদ্ধ রঙ্গ বিবি ও ফণিভূষণ কুন্ডু নামের দুই গ্রামবাসীও নরঘাতকদের হত্যার শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও হানাদারদের রাতভর বিক্ষিপ্ত এলোপাতাড়ি গুলিতে কয়েক গ্রামবাসী গুরুতর আহত হন।
পরদিন সকালে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার জনতা এসে ভিড় জমায় কামান্নার অস্থায়ী মুক্তিযোদ্ধা ঘাঁটিতে, যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ২৭ বীর মুক্তিযোদ্ধার নিথর দেহগুলো। গ্রামবাসী সেসব মৃতদেহ এক স্থানে জড়ো করে। কিন্তু হানাদারদের পাল্টা আক্রমণের ভয়ে তড়িঘড়ি করে কামান্নার হাইস্কুলের খেলার মাঠের উত্তর পাশে কুমার নদের ধারে ৬ জন করে দুটি ও ৫ জন করে ৩টি গণকবরে ২৭ বীর সন্তানকে কবর দেন।
Monday, November 26, 2018
ঈদের ছুটি কাটাতে এবারে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা যেকোনো ব্যক্তিগত পরিবহনে ঢাকার বাইরে যেতে বা ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে সাধারণ মানু...
mdnazmul.23blogspot.com
-
সকলের দোয়া ভালোবাসায় শিক্ত এ্যাড.আসাদুজ্জামান,তিনি ঝিনাইদহ ১,শৈলকুপা থেকে প্রত্তিতদন্দিতা করবেন।
-
বাংলা নিউজ রিপোর্ট ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৮ | অনলাইন সংস্করণ বিএনপির মনোনয়ন বিতরণ। ছবি-যুগান্তর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেদ্বিতীয় দিনের...
-
বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আমাদের দল থেকে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন দিয়েছি প্রায় ৮০০-র মতো। ২০-দলীয় জোটের শরিক...
-
Home
-
আজ ২৬ নভেম্বর ঐতিহাসিক কামান্না দিবস শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি চঞ্চল মাহমুদ ঝিনাইদহ: ২৬ নভেম্বর ১৯৭১’র আজকের এই দিনে ঝিনাইদহের শৈল...
-
ঈদের ছুটি কাটাতে এবারে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা যেকোনো ব্যক্তিগত পরিবহনে ঢাকার বাইরে যেতে বা ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে সাধারণ মানু...
-
MD.Nazmul Hasan
-
mdnazmul.23blogspot.com
সকলের